গল্পঃ #কালো_আঁধারে_ঢাকা_আমার_জীবন
সাইয়ারার প্রতিটা কথা যেনো আমার রিদয় কে ভেঙ্গে
টুকরো টুকরো করে দিচ্ছে তার মানে ধুসর রঙের
কাগজে যা লেখা ছিলো তাই সত্যি..............আহ কি
পোড়া কপাল আমার।নিয়তি কেনো বারবার আমাকে
কঠিন পরিক্ষার সম্মুখে এনে দাঁড় করায়।কেনো
প্রতিবার আমাকেই কোনো না কোনো চক্রান্তের
শ্বিকার হতে হয়।আমার প্রথম প্রেম-ভালোবাসার
মানুষ সাইভা মারা যাওয়ার পরে যাকে এই ভাঙ্গা
রিদয়ে ঠাই দিয়ে ছিলাম।যার জন্য নতুন করে বেঁচে
থাকার আস্থা লাভ করেছিলাম।আজ সেই আমার
বেঁচে থাকার ইচ্ছেটা নিমিষেই মেরে ফেললো।কখনো
ভাবতে পারিনি সাইয়ারার মনে মনে শেষ-মেস
আমাকে অত্যন্ত নৃশংস ভাবে মারার পরিকল্পনা
ছিলো।সাইয়ারার প্রতিটা শব্দের ধব্বনি যেনো আমার
রিদয়কে চুর্ন-বিচুর্নতে রুপান্তর করছে।সত্যিই কি এই
সাইয়ারা সেই আগের সাইয়ারা।বুকটা ফেটে যাচ্ছে।
কলিজা সেই কখনি শুকিয়ে যাওয়ার উপক্রম।
নিশ্বাস নিতেও এখন কেনো যানি খুব কষ্ট হচ্ছে।
চোখের জল গুলো আমার চিক চিক জলমল করছে।
সাইয়ারা এখনো কথা বলায় গভীর ভাবে মগ্ন রয়েছে।
আমাকে কি ভাবে কেমনে কত পরিমান কষ্ট দিয়ে
হত্যা করবে তাই ফোনে কার সাথে যেনো কথা বলছে,
সাইয়ারার মুখে আমাকে নৃশংসতা ভাবে হত্যার
তাৎপর্য গুলো শুনে ঘৃনায় আমার গা টা শির শির করে
উঠছে।এ আমি এতোদিন কোন বহু রুপির সাথে
সংসার করলাম।যে আছে আমাকে নৃশংসতা ভাবে
হত্যা করার নেশায়।এখন বেশ উপলব্ধি করতে পারছি
বাবা হয়তো আমাকে সাবধান করে দিতে চেয়েছিলেন
বাবা হয়তো আমাকে সাইয়ারার ব্যাপারেই কিছু
বলতে চেয়েছিলেন।যানি না কি থেকে ঠিক কি হতে
চলেছে, আবার কোন রহস্যের মুখোমুখি হতে যাচ্ছি
আমি?তখন বেলকনিতে যাকে আমি সাইয়ারা ভেবে
জড়িয়ে ধরে বেশ ঠান্ডা অনুভব করেছিলাম সে কে
ছিলো।ধুসর রঙের কাগজের লেখাটা ঠিক কার ছিলো
সে কি করেই বা জানলো আজ আমার স্ত্রী আমাকে
নৃশংস ভাবে হত্যা করার পরিকল্পনা করেছে।সে
ঠিক কে যে আমাকে বাঁচাতে চাইছে।সাইয়ারাও তো
একদিন আমাকে অনেক বড় এক চক্রের হাত থেকে
উদ্ধার করেছিলো।আর আজ সেই সাইয়ারাই আমাকে
নৃশংস ভাবে হত্যার পরিকল্পনা করছে।কিন্তু আমাকে
হত্যা করে সাইয়ারার ঠিক কি লাভ হবে।আমার মনে
হয়না সাইয়ারা আমকে খুন করে তেমন কিছু একটা
পাবে।তাহলে কেনো সাইয়ারা আমাকে হত্যা করতে
চাইছে।জানিনা ধুসর রঙের কাগজে থাকা লেখা
গুলো কার,সে কি চায় আমার আছে।আমাকে কেনোই বা আমার স্ত্রীর আসল রূপ সম্পর্কে সচেতন
করলো।এক সময় সাইয়ারাও আমার জীবনে হুঠ করে
প্রবেশ করে আমাকে বিভিন্ন চক্রান্তের হাত থেকে উদ্ধার করেছিলো।আর আজ সেই সাইয়ারাই আমাকে
তার চক্রান্তের বুলি হিসেবে চিহ্নিত করলো।আমার
মন বিশ্বাস কলিজা অন্তর সব কিছু নিমিষেই ভেঙ্গে
চুরমার করে দিলো।কি আমার অপরাধ আমি তো
কখনো কারো ক্ষতি করিনি,কষ্ট দেয়নি,কাউকে
আঘাত করিনি তাহলে কেনো প্রতিবার আমাকেই
কঠিন থেকে কঠিনতম পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হচ্ছে
কেনো প্রতিবার আমার জীবনটাই কালো আধাঁরে
ঢেকে যায়।জানি না এখন আমার ঠিক কি করা
উচিত বেঁচে থাকার সব ইচ্ছেই আমার মরে গেছে।
সাইয়ারার এরূপ রুপ সত্যিই আজ আমাকে খুব
করে কাঁদাচ্ছে।সাইভার পরে একমাত্র সাইয়ারা কেই
নিজের জান-প্রান দিয়ে ভালোবেসে ছিলাম।কিন্তু
আমি হয়তো ব্যার্থ।আমি সাইয়ারার মন জয় করতে
পারিনি।এদিকে সাইয়ারার কথা বলা প্রায় শেষ
হওয়ার উপক্রম অতঃপর আমি দ্রুত বিছানায় চলে
এসে সুয়ে পড়লাম ভাবতেও আজ খুব অবাক লাগছে
আমার।একটু পর সাইয়ারা আমাকে খুন করবে।আমি
কি কিছুই করতে পারবো না।শুধু অসহায়ের মতো
নিজের চোখে নিজের নৃশংস মৃত্যুর দৃশ্যটা দেখা
ছাড়া।বেঁচে থাকার কোনো কুলি খুঁজে পাচ্ছি না।যে
কুলেই যাই না কেনো সে কুলিই কিছু সময় পর পর ভেঙ্গে কষ্টের নদীতে বিলীন হয়ে যাচ্ছে।সাইয়ারা হীন
বেঁচে থাকাটা আমার
কাছে খুবি বেদনা-আর যন্ত্রনার।আবার সাইয়ারার
হাতে এভাবে নিজের মৃত্যুকে বরন করে নেওয়াকেও
আমি কেনো যানি মেনে নিতে পারছি না।এ সময়
আমাকে আরো শক্ত হতে হবে।পরিশেষে সব রহস্যের
জাল ছিড়ে আমাকে উন্মোচন করতে হবে।কেনো
সাইয়ারা আমাকে হত্যা করতে চাইছে।একটু পর
সাইয়ারা বেলকনি থেকে রুমে এসে আমার দিকে
কিছুক্ষন চোখ বড় বড় করে তাকিয়ে থেকে রুমের
দরজা খুলে নিচে চলে যায়।অন্ধকারের জন্য এখনো
হয়তো সাইয়ারা বুঝতে পারেনি আমি জেগে আছি।
কতটা জেগে আছি তা হয়তো সাইয়ারার ধারনারো
বাহিরে।একটু পর খেয়াল করলাম সাইয়ারা রুমে
প্রবেশ করেছে সাথে আরো আট জনের কালো ছায়া
দেখতে পেলাম আমি।তার মানে সাইয়ারা আট জন
লোক কে নিয়ে এসেছে আমাকে হত্যা করার জন্য।
ডিম লাইটের হাল্কা আলোতে তাদের আট জনের
হাতে ইয়া বড় বড় দ্যা গুলো চক চক করছিলো।
মুহূর্তেই ভয়ে আমার শরীরটা শীর শীর করে উঠছে।
আট জন মিলে যদি এসব নিয়ে আমার উপর ঝাপিয়ে
পড়ে তাহলে আমি একা কি করেই বা নিজের আত্য
রক্ষা করতে পারবো।জানিনা এখন আমি কি করে
এদের হাত থেকে বাঁচবো।হয়তো বেশিক্ষন আর
বাঁচতে পারবো না।আর এই মূহুর্তে এখান থেকে
পালানোটাও ওতটা সোজা না।অতঃপর সাইয়ারার
এক হাতের ইশারায় যখন তারা আট জন মিলে
আমার উপর ঝাপিয়ে পড়তে যাবে তখন কোনো।
অজানা শক্তি যেনো তাদের আটকে দেয়।তারা যেনো
হাজার চেষ্টা করার পড়েও আমার কাছে আসতে
পাচ্ছে না।হঠাৎ চোখের সামনে তারা আট জন মিলে
একে অন্য কে নিজেরা নিজেরাই আঘাত করতে
করতে এক সময় বাড়ি থেকে বের হয়ে যায়।এতে
সাইয়ারা যেনো বেশ অবাক হয়ে যায়।
সঙ্গে আমিও।সাইয়ারাকে দেখে
এখন বেশ চিন্তিত দেখা যাচ্ছে।হয়তো এতক্ষন যা
হলো সব তার মাথার উপর দিয়ে গেছে।সাইয়ারা বেশ
কয়েকবার আমার দিকে ভালো করে উঁকিঝুঁকি মেরে
দেখলো,আমি কোনো ভাবে জেগে আছি কিনা।
অতঃপর সাইয়ারা বেশ চিন্তিত হয়ে আমার পাশে
এসে সুয়ে পড়লো।আহ ভাবতেই কেমন একটা
লাগছে আমার ঠিক পাশেই সে সুয়ে আছে,যে
আমাকে হত্যা করতে চায়।তা জেনে শুনেও আমি
কতটা না স্বাভাবিক অবস্থাতেই রয়েছি।পরের দিন
সকালে ঘুম থেকে উঠে ফ্রেস হয়ে ডাইনিং টেবিলে
গিয়ে বসলাম।এমন ভাবে সাইয়ারার বানানো খাবার
গুলো আমি খেলাম যাতে মনে হচ্ছে গত কাল রাতে
কিছু ঘটেই নি।এমনিতেও এখন আমাকে কিছুতেই
কোনো ভাবে সাইয়ারাকে জানতে দেওয়া যাবে না
যে আমি সবটা জেনে গেছি।কারন এখনো অনেক
রহস্য উন্মুক্ত হওয়া আমার কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ন।
অতঃপর খাবার খাওয়া শেষ করে অফিসে যাওয়ার
বাহানায় সাইয়ারার বাবার বাড়ি অর্থাৎ আমার শশুর
বাড়ির উদ্দেশ্যে যাচ্ছি।সেখানে যাওয়ার বিশেষ কারন
হচ্ছে,সাইয়ারাদের বাড়িতে এমন একটা রুম আছে
যে রুমে আজ পর্যন্ত সাইয়ারা ছাড়া আর কেউ যায়নি
বা যাওয়ার সাহস ওবদি পায়নি।কিন্তু আমাকে যে
করেই হোক সেই রুমে প্রবেশ করতে হবে।হয়তো সেই
রুমেই কোনো না কোনো রহস্যের উন্মুক্ত হয়?
পরিশেষে অনেকটা জার্নি আর ক্লান্ত ভরা দেহ নিয়ে
শশুর বাড়ির সামনে আসতেই অনেক মানুষের ভীর
দেখে কিছুটা অবাক হয়ে যায়।কি ব্যাপার এতো ভীর
কেনো?অতঃপর যখন ভীর ঠেলে ভেতরে যাই তখন
যা দেখি তাতে আমার বুকের ভেতরটা কম্পনের
আবির্ভাব সৃষ্টি হতে শুরু করে দিলো।কারন চোখের
সামনে আমার শশুর শাশুড়ীর জুলান্ত লাশ পড়ে
আছে।আহ দেখে মনে হচ্ছে কি নৃশংস ভাবেই না
তাদেরকে খুন করে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে।ভালো করে
আরেক বার শশুর শাশুড়ীর নৃশংস লাশের দিকে
তাকালাম।কালকে আমাকে যেভাবে হত্যা করার কথা
ছিলো ঠিক একই ভাবে তাদের ও খুন করা হয়েছে।
তার মানে ?তার মানে?শশুর শাশুড়ীর মৃত্যুর
পিছনে সয়ং সাইয়ারার হাত নেই তো.................
............................................................
ভুল ক্রতি ক্ষমার চোখে দেখবেন
গঠন মূলক মন্তব্য করুন ধন্যবাদ 😊🔰
বানান ভুল গুলো একটু ধরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা
