লজ্জা নয় জানতে হবে


 ডাক্টার বলেছে আমার যৌন দুর্বলতা আছে, হয়তবা আমি তোমাকে এই সুখটা দিতে পারবো না।  বাসর রাতে বউ আমার মুখ থেকে এরকম কথা শুনে কোনো ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখালো না।  এরকমটা দেখে আমিও অবাক হলাম।  অনেক্ষন পর সে আমাকে অবাক করেদিয়ে বললো কোনো সমস্যা নেই।  আমার আপনি হলেই চলবে।  নিয়মিত আমাকে ভালোবাসবেন এতেই এনাফ।  

আমি আবারো বললাম হয়তোবা তোমাকে মা হওয়ার সাদ টা দিতে পারবো না।  এবারো অবাক করে দিয়ে বললো সমস্যা নেই আপনি হলেই চলবে।  শুধু সারাজীবন ভালোবাসা দিয়ে যাবেন।  আমিও মনে মনে ভাবতেছি আসলে এরকম বউ পাওয়া মনে হয় ভাগ্যের ব্যাপার।  অন্য কোনো মেয়ে হলে হয়তোবা এতক্ষনে অনেক ঘটনা ঘটিয়ে ফেলতো।  বউ আমার মুচকি হাসি দিয়ে আমার কাছে এসে বুকের মাঝে মুখ লুকালো।  আমিও কাছে টেনে নিলাম ভালোবাসা দিয়ে।  আসলে আমার এধরনের কোনো সমস্যা নেই আর থাকলেও এভাবে মুখের উপর বাসর রাতে বলতে পারতাম না।  আর এট মেনে নেওয়ারও বিষয় না।  পুরোটা আমার অভিনয় ছিলো।  কি ভাবতেছেন এরকম অভিনয় কেনো করলাম ।

এর কারন একটাই বউটাকে একটু পরিক্ষা করে নিলাম আসলে সে কোনটা আমার কাছ থেকে বেশি আশা করে।  অথচ সে আমাকে অনেকটা অবাক করে দিলো।  কারন আমি এরকম টা কম আশা করেছিলাম।  

মেনে নিয়েছে এতো কঠিন বিষয়টা এত সহজভাবে এর পিছনে কি আরো কোনো কারন আছে নাকি এরকম বেশ কিছু প্রশ্ন আমার মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছে।  আসলে বিষয়টা কি সত্যি সে মেনে নিয়েছে নাকি আরো অন্য কোনো কাহীনি আছে। এসব ভাবতেছি হটাৎ হাতে চিমটি অনুভব করলাম।  আওওও।  মেয়েটা তো ভারী বজ্জাত।  

ভাবনার জগত থেকে বেড়িয়ে আসলাম ।  সাথে সাথেই ও প্রশ্ন ছুড়ে দিলো

-কি বেপার কি ভাবতেছেন আপনি..?

-কই কিছু না তো।(সত্যটা এখুনি বলা যাবে  না) 

-কিছুতো ভাবতেছেন।  বলেন নইলে কিন্তু আবার চিমটি দিবো।  

- চিমটি থেকে বাচার জন্য একটা মিথ্যে রটিয়ে দিলাম।  বললাম তোমার কথাই ভাবতেছি।  তোমাকে তো বিয়ে করলাম কিন্তু তোমার কথা কিছুই জানিনা শুধু নামটা বাদে।  

- সমস্যা নেই সব জানতে পারবে।।  অনেক সময় আছে।  এমনকি প্রয়োজনে সারারাত আজ শুধু আমার সম্পর্কে বলবো।  

- ওকে।  সব শুনবো।  এটা বলে ওকে আরো কাছে টেনে নিয়ে জড়িয়ে ধরলাম।  কপালে একটা চুমু দিলাম।  কারন এটুকু তার প্রাপ্প।  অনেকটা অধিকার থেকে তাকে বন্ঞ্চিত করা হয়েছে।  যদিও এদিকে আমারো নিজেকে চেক দেওয়া অনেকটা কঠিন হয়ে গেছে।  জীবনের প্রথম কোনো মেয়ের সাথে তা আবার এত কাছাকাছি  থাকা অবস্থায় নিজেকে চেক দেওয়া কতাটা কঠিন সেটা আজ হাড়ে হাড়ে তের পাচ্ছি। সারারাত এভাবেই গল্প করতে করতে কেটে গেলো।

পরদিন সকালে উঠেই পুরোপুরি অবাক।  গৌসল করে ভেজা চুল নিয়ে আমাকে ডাকছে।  কই কাল রাতে আমি তো কিছুই করলাম না তাহলে কেনো সকালে উঠেই গৌসল করলো।  এমনটা প্রশ্ন মাথায় আসার সাথে সাথেই তার দিকে ছুড়ে দিলাম প্রশ্নটা।   উত্তর টা খুবই সাধারন ভাবেই আসলো।  আপনার মান সন্মানের জন্যই এটা করলাম।   

মেয়েটাকে অনেক সাধারন  মনে  হলো।  যাইহোক আপাতত এটা বুঝতে দেওয়া যাবে না যে তার সরলতায় অনেক মুগ্ধ আমি।  

তার চিমটি খেয়ে বাস্তবে ফিরলাম।  আমার দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসি দিয়ে  বললো উঠেন আর গৌসল করে নিবেন কিন্তু।  

- উঠতে তো হবেই তবে সকাল সকাল মিষ্টি খেতে ইচ্ছে করছে..

- (বুঝতে পেরে) ডায়াবেটিস হবে স্যার।  

- এই মিষ্টি  খেলে যদি এর চেয়ে কঠিন রোগও হয় তবে তাই হোক। 

এটা বলেই আর উত্তরের সুঝোগটা দিলামনা।  ওষ্ঠদ্বয়ের উপর মারাত্নক ভাবে আক্রমন করলাম।  আমার কাছ থেকে কোনোরকম ছাড়িয়ে নিয়েই আবারো মুচকি হাসিটা দিয়েই বাইরে চলে গেলো।  সকালে হালকা নাস্তা করে বাইরে ঘুরে আসলাম বন্ধুদের সাথে আড্ডাও হয়ে গেলো।  অনেকে অনেক রকম প্রশ্ন করলো।

  কি মামা ম্যাচ কেমন খেললা..? 

কয় ম্যাচ হলো...?

কতক্ষন পাইছো মামু..? 

আমিতো মনে মনে অন্য বিষয় ভাবতেছি।  আমার তো সমস্যা আছে।  এটা ভেবে ওদের কাছ থেকে কোনো রকম কথা কাটিয়ে চলে আসলাম।  বাসায় এসে দুপুরের খাবারের জন্য সকলে টেবিলে।  

ও আসলে আমার পরিচয় টা তো দেয়া হলো না।  আমি সজিব।  চাকরি করতাম একটা মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানিতে কিন্তু চাকরিটা শুধু বিয়ের জন্য।  এখন চাকরিটা ছেড়ে দিবো।  কারন ফ্রিলান্সিং করে প্রচুর ইনকাম করি ।  তাই ভাবছি আমার  গ্রামেই একটা আইটি ফার্ম খুলবো।  যাই হোক সদ্য বিবাহিত মেয়েটি অর্থাৎ আমার বউয়ের নাম  হলো তিন্নি।   বিয়েটা আমার বাবা মায়ের ইচ্ছে মতোই হয়েছে এমনকি বিয়ের আগে মেয়েকেউ দেখিনি।

যাই হোক খাবার টেবিলে বসে পুরাই অবাক।  আমার প্রিয় খাবার গুলো রান্না করছে। আসলে রান্নানাটা যে আমার বউ করছে তা আমি বুঝতে পেরেছি তাছারা ইনভেস্টিগেশন করেও ফেলেছি।  খাওয়ার সময় আরও অবাক অনেক মজা।  কিন্তু তিন্নিকে রাগাবার জন্য একটা মিথ্যে আমার মুখদিয়ে বের হয়ে গেলো।  

- কি বিশ্রি রান্না।।  কীভাবে খাবো আজকে..? কে রান্না করেছে...? এতো বাজে রান্না।

সবাই অবাক চোখে তাকিয়ে আছে আমার দিকে। সবাই হয়তো মনে মনে বলছে এটা সজীব কেনো বললো।  ও কি ঠিক আছে।  এদিকে বউ প্রিয়োতমার মুখটা মলিন হয়ে গেলো।  মনে হচ্ছে শ্রাবনের মেঘ গুলো ঝরো হলো আকাশে।  চোখ ভেজা ভেজা হয়ে গেলো মনে হলো এখুনি নামবে বুঝি শ্রাবনো অঝরে।  

তিন্নির দিকে দেখে আমার আম্মাজান রেগে গিয়ে বললো সজীব বাবা  তোর খাওয়া লাগবে না।  তুই যা তোর জন্য আলাদা ভর্তা ভাতের ব্যবস্তা করে দিবো।  

এমা এবার কি হবে এত স্বাদের রান্না কি তবে আমার কপালে জুটবে না।  আম্মাজানের কথার উপর কথা বলার ক্ষমতা আমার নেই।  কি করি এখন।  অবশেষে যেতেই হলো।  বউকে রাগাতে গিয়ে আজ নিজেই অনাহারে কাটাতে হবে মনে হচ্ছে।  মুখটা মলিন করে একরাশ হতাশা নিয়ে রুমে চলে আসলাম।  অনেক্ষন থেকে ভাবছি কি করা যায়।  তবে কি আর আজকের এই খাবার আমার পেটে এন্ট্রি  করবে না।  আহহ কত্ত মজা হইছিলো মাছটা।  

এই সময় রুমে তিন্নির আগমন  । ছলছল আখি আর মলিন মুখ।  কাছে গিয়ে বুকে টেনে নিলাম।  ও নিজেকে ছাড়িয়ে নিলো সাথে সাথে।  বেলকনিতে দাড়িয়ে আছে।  আবারো পেছন থেকে জড়িয়ে ধরে বললাম আসলো পাগলি আমি রাগানোর জন্য বলছিলাম।  সরি পাগলি এবারের মতো মাফ করে দাও আর হবে নাহহহ।  সাথে সাথে পুরো মুখমণ্ডলে চাদের আলো ছেয়ে গেলো বুঝলাম এক মুহুর্তেই সব শেষ কিন্তু আরো একটা হুকুম দিয়ে বসলো।  

- কান ধরেন।  দশ বার মাত্র।  নো চিটিং।

হয়েছেরে এবার মনে হয় মান ইজ্জত ভ্রষ্ট হয়ে যায়।  কি আর করার কান ধরতেই হলো।  খুব সাবধানে ধরলাম কারন ছোটবেলা ক্লাশে বেঞ্চে চুয়িঙ্গাম দেওয়ার অপরাধে কান ধরে উঠবস করার সময় পেন্ট ফেটে গেছিলো আমি চাইনা বউয়ের সামনে ইজ্জত আবারো নষ্ট হোক। 

 দশবার হওয়ার সাথে সাথেই তিন্নি মুচকি একটা হাসি দিয়ে দৌড়ে চলো গেলো মনে হচ্ছিলো আমি বাঘ আর আমার থাবার ভয়ে পালালো।   কিছুক্ষন পরে হাতে খাবার নিয়ে আসলো।  বাহহ মচৎকার মেয়ে তো।  খবার রেখে চলে যাচ্ছিলো।  হাতটা টেনে ধরে জিঙ্গাসা করলাম এটা কার জন্য আনছো...?

- কেনো আপনার জন্য।  

- আমি তো নিজের হাতে খাবোনা

- ওকে ওয়েট করেন চামচ আনতেছি।  

- আরে চামচ কেনো।  আমি তোমার হাতে খাবো।

-আমার হাতে তো কিছু কাজ আছে।  সময় নেই।

- কাজটা কি আমার চেয়ে বেশি ইম্পরট্যান্ট।  

- ওকে বুঝছি আপনার সাথে কথা বলে পাবো না।  

নিন হা করেন।

যাই হোক হাতে কামড় দেওয়ার সুঝোগটা তো পেলাম।  

-আচ্ছা খাবার টা কেমন হয়েছে সত্যি করে বলেনতো...?

- আরে পাগলি অনেক মজার একটা খাবার আর সব আমার  প্রিয় খাবার।  তাছাড়া মনটা খুব খারাপ হয়েছিলো যখন আম্মু টেবিল থেকে উঠিয়ে দিয়েছিলো।

ও আমাকে খাইয়ে দিচ্ছে।  একটা চান্স খুজছি কখন কামড় দেওয়া যায়।  কিন্তু তিন্নি কি যেনো ভাবছে।  এই সুযোগে চিমটিটা শোধ দিয়ে নিলাম।  কিন্তু ভাবনাটা কি হতে পারে। চিমটি খেয়ে কোথায় একটু রাগ হবে তা না বরং মুচকি হাসি।  এবার চিন্তাটা আমার হলো আসলে মুচকি হাসিটা দেখে মনে হচ্ছে সে হাসতে চাচ্ছে না।  কেমন করে যেনো বের হয়ে আসছে সয়ংক্রিয় ভাবে কয়েকটা পর্দা ভেদ করে।  তবে আমার চিন্তাটা আমার মাথায় আর থাকলো না।  অতি আবেগে আগ্রহে প্রশ্নের রূপ নিয়ে বের হয়ে আসলো।  

- আচ্ছা বার বার মুচকি হাসির কারনটা জানতে পারি...?

 আবারো সেই রহস্যাবৃত মুচকি হাসি দিয়ে বললো অবশ্যই জানতে পারবেন কিন্তু সেটা সময় হলেই।

মনের মধ্যেও অন্য একটা ভয় কাজ করছে।  একে আবার কোনো জিন কিংবা পরি ধরলো না তো।  নাহ এরকম কিছু হলে তো জোড়ে জোড়ে হাসতো কিন্তু সে তো মুচকি হাসি দিচ্ছে।  

তবে কি মুচকি হাসির কারনটা রহস্যময় খোলোস থেকে বের হয় আসবে..?

 অপেক্ষায় রইলাম... সেই মূহুর্তের জন্য.....

।গল্প টি ভালো লাগলে অবশ্যই কমেন্ট করে জানাবেন 😊,,

Nahidur Rahman Emon

You are a well-educated man, a sense of humanity is at work in you, I want it to be reflected in your actions

Post a Comment (0)
Previous Post Next Post