শ্যাম বরণ কন্যা


 শ্যাম বরণ কন্যা 


,

মেয়েটির নাম উম্মে মাইসা,

কিন্ত নীলের খুব ইচ্ছে ছিলো কারন 

কাজল কালো চোখ দুটো ঠিক সাদিয়ার মতো,

আর যে পারফিউম টা উনি ইউজ করে সেইম পারফিউম সাদিয়া ইউজ করতো


নীল আরিফ কে ইশারা দিলো মাইশাকে 

মুখ খোলার জন্য,

সেই কথা মতো আরিফ ভাই বলল,

মিস মাইসা,

আপনি ইন্টারভিউ বোর্ডে আছেন,

আপনাকে মুখ খোলতে হবে না হলে,

আমরা আপনার ইন্টারভিউ নিতে পারছি না,


মাইসা- সরি স্যার আমি পারবো না,


আরিফ ভাই রেগে বলতে যাবে কেনো,

ঠিক তখনই নীল আরিফ সাহেব এর হাত ধরে ভাই আস্তে,

আরিফ ভাই বুঝতে পারলো, নীলের পূর্ব পরিচিত, 


তখন নীল বলল,দেখেন আমাদের অফিসে জব করতে হলে আপনাকে মুখ খোলে জব করতে মানে আপনি হিজাব 

পড়তে পারবেন কিন্ত আপনাকে মুখ খোলা রাখতে হবে,


মাইশা নীলের দিকে তাকিয়ে বলল,সরি স্যার আমি পারবো না, 

আচ্ছা স্যার আমি কাজ পারলেই 

তো হল,আমার যোগ্যতা দেখেন আমি কাজ না পারলে তখন বলবেন, 

কাজ কি আমার চেহারায়, 


নীল- দেখেন আমরা বলছি না আপনার যোগ্যতা নাই,কিন্ত এটা আমাদের অফিসের রুলস,

আমরা কাকে জব টা দিচ্ছি দেখব না,


মাইসা আরও বলল,যে পর্দা করে পারলে তাকে হেল্প করুন,

তাকে আরও উৎসাহ দিন, 

কিন্ত কিছু মানুষ আছে আমাদের সমাজে যারা পর্দাতে এলার্জি আছে,।


মাইসার কথা শুনে মনে পড়লো সেদিন বাজারে মুরগী কিনতে গিয়ে, 

সেলিম ভাইয়ের মেয়ের কথা,

মুরগীর জন্য দাঁড়িয়ে আছি এমন সময় সেলিম ভাইয়ের মেয়ে আসলো দোকানে টিফিনের টাকা নিতে, 

মেয়েটি ক্লাস এইটে পড়ে,

সেলিম ভাই টিফিনের টাকা দিলো মেয়েটি টাকা হাতে নিয়ে বলল,আব্বা

চল না স্কুল যাই,


সেলিম ভাই- কেনো।

--স্যার বোরখা  পড়ে ঢুকতে দেয় না ক্লাসে,সেদিন বের করে দিয়েছিলো,


-আমি তো স্যার কে বলে দিছি ২দিন আগে।


--না আব্বা তার পড়েও কথা বলে,আমি বোরখার নিচে স্কুল ড্রেস পড়ছি তার পড়েও কথা বলে,


তখন সেলিম ভাই বলল,দেখছেন নীল বাংলাদেশ নাকি ৯৫% মুসলিম রাষ্ট্র, 


সেলিম ভাই তখন বলল,তুমি যাও আজ যদি আজ কথা বলে,

তাহলে বলবা,আমার বাবা মুরগী কাটা ছুরি দিয়ে বাজারে ফেলে জবাই করবে,,


আরিফ ভাইয়ের হাতের ধাক্কায় আমি ভাবনার জগত থেকে ফিরলাম,। 

সামনে তাকিয়ে দেখি ফাঁকা চেয়ার,।।


নীল তখন আরিফ ভাই কে বলল,আরিফ ভাই মেয়েটি কোথায়?


আরিফ - সে তো সেই কখন চলে গেছে।


নীল- আমাকে বললেন না কেনো,


- আচ্ছা এটা বলেন নীল ভাই আপনি কি মেয়েটা কে চিনেন,


-হুম চিনি বলতে আপনি যেমন দেখলেন।আমিও তেমন দেখেছি,


-আচ্ছা বাদ দেন নীল ভাই,তা কাকে  সিলেক্ট করবেন,


-কেনো মাইসা কে প্লিজ ভাই,


-আচ্ছা বুঝলাম কিন্ত উনি তো মুখ খোলে কাজ করবে না তো বস তো আর তা মানবে না,


নীল তখন বলল,বস কে আমি বুঝাবো 

আরিফ ভাই- কি নীল সাহেব কিছু চলেছে নাকি,


-আরে না ভাই,মাইসা কে ফোন দেন আর বলেন কাল থেকে জয়েন করতে,


নীলের কথা মতো আরিফ সাহেব ফোন দিলেন মাইসা কে,

কিন্ত মাইসা জব করবে না বলে আরিফ কে না করে দিলেন,।

আর আরিফ কে এটাও বললেন আপনার কলিগের ভাবসাব বেশি একটা সুবিধার না,

আরও অনেক কথা বলে না করে দিলেন,


আরিফ ভাই ফোন টা রেখে নীল ভাই এইডা মানুষ নাকি হাইব্রিড করোলা।

মুখের উপর না করে দিলো,।

তা নীল ভাই এখন কি করবেন,

ফোন নাম্বার টা নিয়ে যান ট্রাই করেন কাজ হলেও হতে পারে, আমার  তো মনে হয় না হবে,


আরিফ ভাই-০১৭৭১৭০ ধ্যাৎ ভাই বলতে পারবো না ধরেন সিভি টাই নিয়ে যান,


নীল সিভি টা সুন্দর করে ভাজ করে সিভি টা যত্ন করে পকেটে রেখে দিলেন,


আরিফ ভাই হা করে তাকিয়ে আছে, 

তারপর বললেন,আসলে সিভি নিয়ে নিলেন,

নীল- আপনি না বললেন। 


আরিফ - বললাম বলে,থাক থাক দিতে হবে না,


নীল অফিসে কাজ শেষ করে বাসায় গেলো, 

রুমে এসে জুতা খোলছে নীল,

এমন সময় নীলের মা আর লিমা দাঁড়িয়ে আছে চুপচাপ, 


নীল- কি কিছু বলবে তোমরা। 

মা- হুম বলবো,

নীল- কি বলবা বলে ফেলো।

লিমা- ভাইয়া অফিস থেকে ছুটি নি,বিয়ের ডেট ঠিক করব,

নীল- মা তোমার মেয়ের লাজ লজ্জা বলে কিছু নাই,নিজের বিয়ের কথা নিজেই বলছে আর এই তুই তো মাত্র ইন্টারে পড়িস কিসের বিয়ে,


মা- লিমা ওর বিয়ের কথা বলে নাই,তোর বিয়ের কথা বলছে,


নীল- মা মাত্র অফিস থেকে আসলাম আর শুরু করে দিলে,(রেগে)


লিমা- এতক্ষণ তো ভালই কথা বলছিলি বিয়ের কথা বলতেই এমন ক্ষেপে যাস কেনো,তুই কি বিয়ে করবি না,


নীল শার্ট টা খোলে ঝাঁকুনি দিতেই একটা কাগজ পড়লো, আর সেটা লিমা টপ করে কুঁড়িয়ে লিমা দেখলো একটা সিভি,


লিমা মাকে ডেকে বলল,মা দেখো তোমার ছেলে মেয়ের সিভি বুক পকেটে নিয়ে ঘুরে,


মা-মেয়েটা কে আর এর মুখ বোরখা দিয়ে ছবি উঠছে,


নীল- আমি মেয়েটা কে চিনি না,


লিমা- তাহলে এটা তোর পকেটে কেনো বল,


মা-হুম বল,


আমি লিমা কে ৫০০টাকার নোট দেখালাম,


লিমা টাকা দেখে মা কে বলল, মা রান্না ঘর থেকে কেমন একটা গন্ধ আসছে,যাও তো দেখো,

মা চলে গেলো, 


লিমা- ভাই দেখ আমাকে হাজার টাকা দিলে আমি তোর পক্ষে কথা বলবো,


নীল - আমার পক্ষে বলবি তো পড়ে তো আবার পল্টি মারবি না,


লিমা- দূর টাকা হালাল করে নিতে হবে না,আমি তোর কাজ করেই নিবো,

আচ্ছা মেয়েটা কি তোর পছন্দ, 


নীল- হুম,মা আসছে,


মা আসতেই লিমা বলল, মা আমরা যদি এই মেয়ের সাথে ভাইয়ার বিয়ে দেই,

তাহলে কিন্ত ভালো হয়,আর  ঐ যে ঢিঙি মেয়ের সাথে বিয়ে ঠিক করছো ওটা মেয়ে হল,


মা- আমি জানতাম এই নে ২হাজার টাকা,এখন বল,


লিমা- মা কি বলবো ঐ মেয়ের কথা তুমি যে মেয়ের সাথে বিয়ে ঠিক করছো ব্যবহার খুব ভালো তোমাদের অনেক যত্ন করবে ভাইয়া অনেক ভালো থাকবে,


নীল- এই এই মাত্র তোকে আমি হাজার  টাকা দিলাম,তুই কিন্ত পল্টি মারছিস,


লিমা- মা তো ডাবল দিছে তাই আমি এখন মায়ের,


মা-আমি জানতাম এখানে ঘুষ দেওয়া নেওয়া চলছে তাই আমিও,এত কথা বলে লাভ নাই অর্পি চলে আসছে আমি ওকে রুমে বসিয়ে আসলাম তুই তারাতাড়ি রেডি হ,।।


নীল- আজ ঐ মেয়ের খবর আছে,

কোথায় আজ তো ওকে,,,,,,,,,,


Nahidur Rahman Emon

You are a well-educated man, a sense of humanity is at work in you, I want it to be reflected in your actions

Post a Comment (0)
Previous Post Next Post