অনুরাধা:হ্যালো, কে বলছেন?
-আমি তোমাকে চুম্বন দিতে চেয়েছিলাম। তুমি চেয়েছিলে বনভূমি, মনের আড়াল!
অনুরাধা:কে আপনে?
-আমি তোমাকে সন্তান দিতে চেয়েছিলাম। তুমি চেয়েছিলে বাস্তবের বিদীর্ণ পলাশ!
অনুরাধা:এই কে আপনে? হ্যালো, খুব পরিচত লাগছে আপনাকে। কে আপনে? প্লিজ বলুন....
-আমি তোমাকে স্বপ্ন দিতে চেয়েছিলাম। কিন্তু তুমি ঘুমের ওষুধ কিনে নিয়েছিলে!
অনুরাধা:জয়? তুমি?
-চিনতে পেরেছো তাহলে?
অনুরাধা:হুম। এত পরিচিত কণ্ঠ ভুলে যাই কি করে?
-কেমন চিনেছো সেটা তো দেখলামই!
অনুরাধা:আসলে সেটা না জয়। অনেকদিন থেকে কথা হয়না তো তাই আর কি!
-দূরত্ব বেড়ে গেছে তাইনা?
অনুরাধা:হয়তোবা!
-আচ্ছা।
অনুরাধা:তোমার কাছে কি মনে হয়?
-আমার তো মনে হয় মোটেও দূরত্ব বেড়ে যায়নি।
অনুরাধা:কেন?
-আসলে অনু, দূরত্ব বেড়ে যায় দেহের, মনের নয়। তোমার সাথে আমার দেহের দূরত্ব বেড়ে গেছে, কিন্তু মনের নয়।
অনুরাধা:জয়....
-হুম অনু। পাশাপাশি থাকলে, একে অপরকে স্পর্শ করলেই শুধু ভালোবাসা হয়না।
অনুরাধা:জানি। আচ্ছা বলো তো আমাদের আজ কতদিন পর কথা হচ্ছে?
-প্রায় তিন বছর!
অনুরাধা:এতদিন যে মানুষটার সাথে আমার কথা নেই, যোগাযোগ নেই। একটিবার আমার খোঁজ নেয়নি। সে আমাকে ভালোবাসে?
-পাল্টা প্রশ্নটা আমিও করতে পারি। কিন্তু না! কারন আমি জানি ভালোবাসা মানে শুধু কথা বলা নয়, স্পর্শ করা নয়, দুজন দুজনার কথা শোনা নয়। ভালোবাসা হলো অসম্ভব সুন্দর এক অদ্ভূত অনুভূতি। দুজন দুজনকে ফিল করাটাই হলো ভালোবাসা। আমি তোমাকে ফিল করি।
অনুরাধা:অনুভূতিতে একটুও মরিচা পরেনি?
-না। সাত বছর আগের সেই অনুভূতির ইস্পাতনির্মিত দেয়ালে একটুও মরিচা পরেনি। ভালোবাসার বার্নিশ দিয়ে সবসময় মুছতে থাকি। মরিচা পরার সুযোগই নেই!
অনুরাধা:Love Is A Connection Between Two Hearts. কথাটি বিশ্বাস করো?
-সবসময় করি। সেই বিশ্বাসই তো আমার ভেতরের অনুভূতিটাকে বাঁচিয়ে রেখেছে;যে বিশ্বাসটা তৈরি হয়েছিল বছর দশেক আগে!
অনুরাধা:হুম। চাপা কষ্টে মোড়ানো আমিও তোমাকে ফিল করি। কিন্তু কষ্টের দেয়ালে আবদ্ধ আমার অনুভূতিগুলো;চাইলেও প্রকাশ করতে পারিনা।
-আচ্ছা বাদ দাও, কেমন আছো সেটা বলো?
অনুরাধা:ভালো থাকতে শিখে গেছি জয়। ভালো থাকতে হয় এখন আমাকে।
-এটাই কাম্য। ভাল থাকো সবসময় তুমি।
অনুরাধা:তুমি কেমন আছো জয়?
-তুমি তো জানোই আমি সবসময় ভালোর দলে!
অনুরাধা:হুম। সিগারেট খাও এখনো?
-না। সিগারেট খেলে তোমার কথা মনে পরে, তাই বাদ দিয়েছি।
অনুরাধা:আমাকে মনে করতে চাওনা?
-মনের ঘরে যার বসবাস, তাকে মনের বন্ধ দরজা খুলে বাহিরে এনে কষ্ট দিতে চাইনা। সেজন্যই সিগারেট খাইনা।
অনুরাধা:সিগারেট খেলে আমায় মনে পরে কেন?
-আমি সিগারেট হাতে নিলেই তুমি বকাবকি করতে, রাগ করে চলে যেতে, সিগারেট কেড়ে নিয়ে ভেঙ্গে ফেলতে। এসব মনে পরে অনেক।
অনুরাধা:এখন কেউ করেনা?
-এসব করার মানুষটাই তো আর নেই। তিনটে বছর হলো সে দূর বহুদূরে!
অনুরাধা:বিয়ে করোনি?
-না।
অনুরাধা:কেন?
-পুরানো অনুভূতির দেয়ালে কেউ আঁচড় কাটুক সেটা চাইনা।
অনুরাধা:পাগল একটা! এভাবে জীবন চলে নাকি?
-জীবন তো থেমে নেই, চলছে তার আপন গতিতে!
অনুরাধা:চুল কি এখনো বড় রাখো?
-ঝাঁকড়া চুলে হাত বুলিয়ে দেয়া মানুষটার অভাব ফিল করি, তাই চুল কেটে ছোট করেছি!
অনুরাধা:বিয়ে করে সেটেল হয়ে নাও।
-অনুভূতি মরে গেলে করে নেবো।
অনুরাধা:হুম। আচ্ছা এত বছর পর আমার নাম্বার কিভাবে পেয়েছো?
-তোমার কাজিন নির্ঝরের কাছে থেকে নিয়েছি।
অনুরাধা:এতদিন পর তাহলে কেন? আগেও তো নিতে পারতে।
-কারন আছে।
অনুরাধা:কি কারন?
-হ্যাপি রিলেশনশিপ ডে অনু!
অনুরাধা:মানে?
-হয়তো এখন তুমি অন্যকারো, আমার ভালোবাসার মানুষ নেই। তবে ভালোবাসাটা ঠিকই আছে। আর আজ আমাদের সেই ভালোবাসার দশ বছর পূর্ন হলো।
অনুরাধা:কি? দশ বছর? এতদিন হয়ে গেলো?
-হুম। দশ বছর পূর্তি একসাথে সেলিব্রেট করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু তার আগেই তুমি আমার থেকে দূরে চলে গেছো। আর আজ তুমি পাশে নেই। ভাগ্যের কি নির্মম পরিহাস!
অনুরাধা:হুম....
-কান্না করো না পাগলী। ভালো থাকো।
অনুরাধা:হুম, তুমিও ভালো থেকো।
-হুম। ভালো থাকুক ভালোবাসা অন্যকারো কাছে। ভালো থাকো প্রিয় তুমি!
