আকুলতা


 আকুলতা

           


মনে পরে তোমার,,, 

      হাত ধরে হেঁটে চলা সেই বিকেলগুলো?  


রাস্তাটা পুরোনো ছিল ঠিকই,,,

               কিন্তু ছিল খুবই পরিচিত।  

জানি কৃষ্ণচূড়া আজো লুটিয়ে পরেছে

               ঘাসে ভরা বাগানজুড়ে।  


আজো হয়তো আশায় থাকে,,

এই বুঝি,,,

       এই বুঝি.... 

কেউ তাকে কুড়িয়ে নিয়ে খোঁপায় জড়িয়ে নিবে।  

ঘাসের শিশিরবিন্দু শীতলতা হারায়,,,, 


   পরন্ত বিকেলের রোদ আজো নতুন মুখ খুঁজে,,,   বেদনা আজো কাঁদে,,, 

বিচ্ছেদের কঠিন কণ্ঠ আজো প্রতিধ্বনিত হয়।

আজো কিন্তু,,,

       আমাদের মাঝে অভিমানটা অটুট।

বুকপকেটে একটা গোলাপ নিয়ে 

      এখনো আসোনি তুমি অভিমান ভাঙ্গাতে।


আচ্ছা,,

      কেমন লাগতো আমায় নীল শাড়ীতে?

হালকা কাজল কি...

     সৌন্দর্য আরো দ্বিগুণ করার আবদার রাখতো!!!

নাকি আমার আলতো খোঁপা 

                 তোমার নজর কাড়তো!!!

জানো,,

       আজো ভুলি না তোমার নামে টিপ পড়তে।


 শাড়িটার আঁচল আজো 

          শিশিরভেজা ঘাস খুঁজে,,,

   

চোখের জলে কাজল লেপটে পরেছে ঠিকই।

কৃষ্ণচূড়া শুকিয়ে গিয়েছে একটু আগেই,,, 


 পড়ন্ত বিকেল মিলিয়ে গিয়েছে অন্ধকারে।

          দিনশেষে পরিপূর্ণ সবই পূর্ণতা পেলো।

কিন্তু দেখো,,

     জিতে গেলো আমাদের অভিমানটুকু। 


জানি,,

     সূর্য আবার নতুন প্রত্যয়ে উঠবে,,, 

                         পরিচিত সেই পথে 


  আবারো ঝড়ে পরবে কৃষ্ণচূড়া,,, 


রাঙ্গা পথে হাতে হাত রেখে 

           হেঁটে যাবে নতুন প্রেমযুগল।

পুরোনো আঁচলের স্পর্শ খুঁজে বেড়াবে 

                   শিশিরভেজা ঘাস।


হয়তো বহুবছর পর 

  আবারো দেখা হবে কোনো এক ব্যস্ত নগরীতে,,,

সেদিন হয়তো কৃষ্ণচূড়া থাকবে না,,,

থাকবে না আমার পরনে

         তোমার দেয়া নীল শাড়ি,,,


দেখেও না দেখার অভিনয় চালিয়ে যাবো দুজনেই।       পুরোনো অনুভূতি কড়া নাড়বে বুকের বাঁ'পাশে।  চোখের কোণে জমতে থাকা জলটুকু 

                  একপলকে মুছে নিও প্রিয়ো।

একটা মানুষের ভিতরে দুইটা মানুষ থাকে একটা হাসি আড়ালে কাঁদে আর অন্যটা কান্না লুকিয়ে হাসে, এ যেন একের ভিতর দুই সত্তা, তবে এটা বহন করা আবার সহজ বিষয় নয়। 


অনেক কঠিন তবে অভ্যাস হয়ে গেলে আর কোনো সমস্যা নেই, অনেকটা মুখোশের আড়ালে মুখের মতো উপরে যা দেখা যায় ভিতরে তার ভিন্ন।


কারো উপর দেখে কাউকে বিচার করতে যাবেন না,  একটা মানুষ ভিতরে ক্ষত বিক্ষত হয়েও মুখে হাসি রাখতে জানে।


কারণ এই হাসির কৈফিয়ত কাউকে দিতে হয় না, তবে মন খারাপের কৈফিয়ত চাই অনেকে, কিন্তু গুছিয়ে বলতে পারে না সবাই।


তাই তো ভিতরের মানুষটা অগোছালো থাকলেও বাহিরের মানুষটা বড্ড গোছালো।।

তুমি জানো তো-এখনো আমি গল্প লেখি।রাতের পর রাত কেটে যায়।নির্ঝুম নিরালায় আমার জানালা দিয়ে দেখা যায় রাস্তা।রাস্তায় কোনো মানুষ নেই।শুধু আমার গল্পের শব্দরা ঘুরে বেড়ায় রাস্তা দিয়ে।


এখনো যখন মন খারাপ হয়-তীব্র অন্ত দহনে জ্বলি।আমার পরিচিত চায়ের কাপ নিয়ে উঠে যায় ছাদে।মাধবী রাতে চায়ের মৃদু মাতাল করা ধোঁয়া আমার ভালোই লাগে।আকাশের দিকে তাকাই।এ কি!কাসার সাদা ধবধবে থালার মতো একটা জ্বলজ্বলে চাঁদ।তুমি ও তো একই চাঁদ দেখছো।এই চাঁদের আলো হয়তো তোমার মুখের উপর পড়ছে।তোমার বেনীহীন একরাশ চুল আর এই চাঁদের আলো মিলেমিশে একাকার!


আমি তখন কবিতার খাতা হাতে কাব্যের মালা গাঁথছি।যদিও তা কাব্য নয়।মানবমনের ছোট ছোট খুনসুটি।


আমি কখনো কাঁদি না জানো তো।কাঁদার জন্য পানি লাগে।পানি যে সব বাষ্প হয়ে উড়ে গেছে।সেই বাষ্পকণা ই হয়তো বৃষ্টি হয়ে ঝরে।সেই বর্ষায় ভেজো তুৃমি।


তোমার জন্য আমার কখনো খারাপ লাগেনি।তুমিহীনতাই এখন আমার অভ্যাস।তবুও যখন জানালা গড়িয়ে জ্যেৎস্না এসে পড়ে ঘরের কোণে।তোমার কথা মনে পড়ে যায়।ছুটে যায় ভৈরব নদীর তীরে।কলকল শব্দে কত গল্প যে ও আমাকে শোনায়!ওর তীরের ছোট ছোট কাশফুল আমার নাম ধরে ডাকে।ঝি ঝি পোকারা বলে- তোমার কি মন খারাপ?

আমি কোনো জবাব দেই না।


 তুমি জানো তো-আমি কাউকে ভালোবাসিনি।মায়ায় জড়িয়েছি বহুবার।সে মায়া কাটিয়ে ও উঠিয়েছি।তুমিহীন জীবনে আমার কোনো কষ্ট নেই।তবুও মাঝে মাঝে মাঝে মায়ার কাছে হেরে যেতে।পৃথিবীতে মানুষের জন্ম হেরে যাওয়ার জন্য।আর এই হেরে যাওয়ার মধ্যেই মায়ার মহত্ত্ব।

Nahidur Rahman Emon

You are a well-educated man, a sense of humanity is at work in you, I want it to be reflected in your actions

Post a Comment (0)
Previous Post Next Post